পরপর দুই ভূমিকম্প,যে সব এলাকায় আফটারশকের আশঙ্কা

 


মঙ্গলবার রাতে পরপর দুইটি ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৯।


একই দিনে একাধিক ভূমিকম্প হওয়ায় আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরেন।


মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে। এটি সেই একই ফল্ট লাইনে ঘটেছে, যেখানে ২০২৪ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ফল্টটি অত্যন্ত সক্রিয় হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।


এর প্রায় ২০ মিনিট পর মিয়ানমারে আবারও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫১ মিনিটে দ্বিতীয় এই ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।


ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ২০ দশমিক ৫১০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩ দশমিক ৯৩২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এলাকায়।


এদিকে, একই দিনের ভোরে বাংলাদেশে আরও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১, যা মৃদু ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। ওই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post