পাকিস্তান অবশেষে ভারতের বিপক্ষে খেলবে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অচলাবস্থা শেষ
মিরপুর/কলম্বো: ভারতের বিপক্ষে খেলতে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে প্রায় দশ দিন ধরে চলা অচলাবস্থা অবশেষে শেষ হয়েছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নির্ধারিত এই ম্যাচে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার, শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে।
সোমবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকার এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পৃথকভাবে বিবৃতি প্রদান করে। উভয় পক্ষই জানায়, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক দিক, আন্তর্জাতিক স্বার্থ এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধ বিবেচনা করে পাকিস্তান দলকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ম্যাচ বর্জন না করার অনুরোধ জানিয়েছিল। উল্লেখ করা হয়, ম্যাচ বাতিল হলে অন্যান্য দেশেরও অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে,
“আন্তর্জাতিক আলোচনার ফলাফল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার জাতীয় দলকে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে। ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী এই খেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
আইসিসিও জানায়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সব সদস্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকাপ সফল করার ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন।
বাংলাদেশের অনুরোধ ও কৃতজ্ঞতা
ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে অনুরোধ জানিয়েছিল।
সোমবার ঢাকায় বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং ইতিবাচক ভূমিকার জন্য পিসিবি, আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
বিসিবি বিশেষভাবে পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন রাজা নাকভি, তার বোর্ড এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশংসা করেছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন,
“পাকিস্তান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সম্প্রতি পাকিস্তান সফর ও আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিসিবির এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক ক্রিকেট সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হবে।
.png)