চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। এবার সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। কিন্তু সেই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথ এখন মোটেও সহজ নয় টাইগারদের জন্য। আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ায় তৈরি হয়েছে বড় শঙ্কা—বাংলাদেশ কি আদৌ সরাসরি জায়গা করে নিতে পারবে?
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে দশম স্থানে, যা সরাসরি যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এক সময় দীর্ঘদিন সপ্তম স্থানে থাকলেও এখন র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়েছে টাইগাররা। বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ৭৪। নবম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৭৭। ফলে সরাসরি যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হলে অন্তত নবম স্থানে উঠতে হবে বাংলাদেশকে।
১৪ দলের এই বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে ইতোমধ্যে জায়গা নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। যদি স্বাগতিকদের মধ্যে কেউ শীর্ষ আটে থাকে, তাহলে নবম বা দশম দল সরাসরি সুযোগ পাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কার্যত ১১তম অবস্থানে রয়েছে যোগ্যতার দৌড়ে।
যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শীর্ষ আটে উঠতে না পারে, তবে বাংলাদেশকে বাছাইপর্ব খেলতে হবে। গত বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব পেরোতে না পারার নজির রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দলেরও। ফলে এই পথ যে সহজ নয়, তা বলাই বাহুল্য।
তবে এখনো সুযোগ রয়েছে। আগামী মাস থেকে শুরু হওয়া সিরিজগুলোই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভাগ্য। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ।
এরপর নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ রয়েছে। এছাড়া আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজও রয়েছে ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামের (এফটিপি) অংশ হিসেবে। এই সিরিজগুলোর প্রতিটি ম্যাচ র্যাংকিংয়ে প্রভাব ফেলবে।
পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে চার দলের বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। লিগ পর্ব বগুড়া ও রাজশাহীতে এবং ফাইনাল হবে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করেন, দীর্ঘদিন ৫০ ওভারের ক্রিকেট না খেলায় এই টুর্নামেন্ট প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তার ভাষায়, এটি ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
সব মিলিয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিট নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি সিরিজে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। এখন সময় হারানো পয়েন্ট পুষিয়ে নেওয়ার—নাহলে আবারও বাছাইপর্বের কঠিন বাস্তবতায় পড়তে হতে পারে টাইগারদের।