বিশ্বকাপে ভারতকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ম্যাচ বয়কট করল পাকিস্তান

 


পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখনও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে একাধিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলছে, আগামী সপ্তাহেই পাকিস্তান দল শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা দিতে পারে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাশে দাঁড়িয়ে শুরুতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল পিসিবি। কিন্তু বর্তমানে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিকল্প পথ হিসেবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করে আইসিসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারে পাকিস্তান।

এ ধরনের সিদ্ধান্তে আইসিসি ও বিসিসিআই আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। যদিও ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানের পয়েন্ট কাটা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পিসিবির দাবি, এভাবেই আইসিসির দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ জানানো সম্ভব, আর সেটিই বোর্ডের প্রধান ভাবনা হতে পারে।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পথে কি পিসিবি?

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফ মনে করেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করাই উচিত। তাঁর মতে, সে ক্ষেত্রে আইসিসিকে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতেই হবে।

CaughtBehind-এ দেওয়া এক মন্তব্যে লতিফ বলেন,
“সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না, তাহলে আইসিসির তা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। অন্যথায় সেখান থেকেই প্রকৃত সংঘাত শুরু হবে।”

যদিও আলোচ্য ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের, তবুও প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপের ফাইনালে যদি ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়, তখনও কি একই সিদ্ধান্তে অটল থাকবে পিসিবি? এ প্রশ্নের উত্তরে লতিফ স্পষ্টভাবে বলেন, “হ্যাঁ। প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই ফাইনালেও আমরা খেলব না।”

এর আগে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের পক্ষে থাকলেও এখন অবস্থান বদলেছেন লতিফ। তাঁর মতে, শক্ত বার্তা দেওয়ার উপযুক্ত সময় ইতোমধ্যেই পেরিয়ে গেছে। যদি পিসিবি কঠোর অবস্থান নিতে চাইত, তাহলে আইসিসির সাম্প্রতিক বৈঠকেই তা করা উচিত ছিল।

লতিফের ভাষায়,
“প্রতিবাদের সঠিক সময়টা আর নেই। প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই একটি উপযুক্ত মুহূর্ত থাকে। লোহা গরম থাকতেই আঘাত করতে হয়। সেই সময়টা ছিল গত সপ্তাহের আইসিসি বৈঠকে। তখন আমরা সমর্থন জানিয়েছি, ভোট দিয়েছি। এখন বয়কট করলে আগের মতো প্রভাব ফেলবে না।”

Post a Comment

Previous Post Next Post