ভারতে ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে বিসিবিকে রাজি করাতে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। নানা পর্যায় থেকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্যদিকে সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)ও। তবে বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেতে যাচ্ছে বিসিবিই।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পরই কঠোর অবস্থান নেয় বিসিবি। সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্রিকেটাঙ্গনে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত উঠে এলেও বোর্ড তাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি।
দেশের ভেতরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ঘিরে নানা প্রচারণা শুরু হয়, বিশেষ করে ভারতীয় কিছু মাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে। এ অবস্থায় বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া দাবি করেন, ভেন্যু পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানেন না। ফলে এখনো আইসিসির আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে বিসিবি।
বিশ্বকাপের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। পরে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য কোনো ভারতীয় ভেন্যুতে সরানোর প্রস্তাব দিতে পারে আইসিসি। এমনকি সেই প্রস্তাব না মানলে পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কার কথাও ছড়ানো হয়।
তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, একাধিক দফা আলোচনার পর বাংলাদেশের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আইসিসি। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিসিবির অবস্থানই মেনে নেওয়ার পথে হাঁটছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও এই ভেন্যু পরিবর্তনের কারণে আইসিসিকে নতুন করে সূচি প্রণয়ন করতে হবে। এমনকি পরিবর্তিত হতে পারে বাংলাদেশের গ্রুপও। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি।
নতুন সূচি কার্যকর হলে আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ বণ্টনেও সমন্বয় আনতে হবে আইসিসিকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতকে অতিরিক্ত ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হলেই খুব শিগগিরই বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাতে পারে আইসিসি, যেখানে বাংলাদেশের জন্য সুখবর থাকার সম্ভাবনাই বেশি।