প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এরই মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে—বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ জানাতে পারে আইসিসি। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি বলে জানিয়েছিল স্কটিশ ক্রিকেট বোর্ড। তবে শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই বাস্তবে রূপ নিল।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। শনিবার এক ঘোষণায় জানানো হয়, ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অংশ নেবে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী বিসিবি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ২০ দলের এই বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে দাবি করে আইসিসি। সেই কারণেই বিসিবির ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সুযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তারা লিখেছে, ‘সব সময়েই প্রস্তুত’। আরেকটি পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘দ্রুততম সময়ে ভারতে পৌঁছানোর প্রস্তুতি চলছে’। মুহূর্তের মধ্যেই এই বার্তাগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড বলেন,
‘আইসিসির কাছ থেকে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছি এবং তা গ্রহণ করেছি। এই আমন্ত্রণের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্য মিলিয়ন দর্শকের সামনে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করার এটি দারুণ সুযোগ।’
তিনি আরও বলেন,
‘আমরা জানি এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, একইসঙ্গে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ।’
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—বিশ্বমঞ্চে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারে স্কটিশরা।