টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নাটকীয় মোড়! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানালো কেন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হলো এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের মাটিতে খেলার ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় ছিল আইসিসি।
বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণে ভারতের মাটিতে তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল। তবে আইসিসি দীর্ঘ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের পর জানিয়েছে, বাংলাদেশ দলের জন্য ভারতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
‘ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো আয়োজনের বিষয়ে বিসিবির উত্থাপিত উদ্বেগগুলো নিরসনে আইসিসি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আমরা বিসিবির সঙ্গে স্বচ্ছ ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়েছি,’—বিবৃতিতে জানিয়েছে আইসিসি।
আইসিসি আরও জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশকে বারবার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের উন্নত নিরাপত্তা প্রোটোকলও বিসিবির সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছিল।
কিন্তু নিরাপত্তা সাপোর্ট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অনড় থেকে টুর্নামেন্ট বর্জনের ঘোষণা দেয়। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বিকল্প দল বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করে। ২১ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায়, স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
আইসিসি জানিয়েছে, স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার মূল কারণ তাদের টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের উজ্জ্বল অবস্থান। বর্তমানে স্কটল্যান্ড ১৪তম স্থানে রয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যেই নামিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেপাল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ওমান এবং ইতালির চেয়ে এগিয়ে। তাই টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অনুযায়ী স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়েছে।
আইসিসি হাইলাইট করেছে, টুর্নামেন্টের সূচির অখণ্ডতা ও পবিত্রতা রক্ষা করা, অংশগ্রহণকারী সকল দল ও ভক্তদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং কোনো precedent তৈরি না করা—এই সবকিছুকে বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ বাদ পড়ায় এবং স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা ও আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়—স্কটল্যান্ড বিশ্বমঞ্চে কতটা প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
.png)