২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ কলম্বোর উপশহর মাউন্ট লাভিনিয়ার সৈকতে অনুশীলন শেষে ফেরার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন আকশু ফার্নান্দো। একটি অরক্ষিত রেললাইন পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকেই তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে থাকার পর অবশেষে দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতি টেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার।
আকশু ফার্নান্দো শ্রীলঙ্কার হয়ে ২০১০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। ডানহাতি প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর, ঠিক তখনই তার ক্যারিয়ার নতুন গতি পাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকান আকশু। পাশাপাশি অফস্পিন বোলিংয়েও নিজেকে উন্নত করার চেষ্টায় ছিলেন তিনি।
নয় বছরের ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, পানাদুরা স্পোর্টস ক্লাব, চিলাও মারিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাবসহ একাধিক দলের হয়ে খেলেছেন আকশু ফার্নান্দো। সিনিয়র পর্যায়ে তার সাতটি ইনিংসে ছিল ৫০ রানের বেশি স্কোর।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার ও রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোশন আবয়সিংহে। তিনি বলেন,
“এক নির্মম দুর্ঘটনায় একজন সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার থেমে গেল। আকশু ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, হাসিখুশি ও বন্ধুবৎসল একজন মানুষ। যারা তাকে চিনতেন, সবার জন্যই এটি গভীর শোকের দিন। আকশু আমাদের স্মৃতিতে চিরদিন থেকে যাবে।”
সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেও সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লেখেন,
“আজ আমার সঙ্গে একই মাঠে খেলা ক্রিকেটার আকশু ফার্নান্দো আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা যে খেলাটাকে ভালোবাসতাম, সেটাই একসঙ্গে খেলেছি। ভাগ করে নিয়েছি অসংখ্য মুহূর্ত, হাসি আর স্মৃতি—যা কোনো দিন ভোলার নয়। খুব তাড়াতাড়িই চলে গেলে তুমি। শান্তিতে ঘুমাও, আকশু। তুমি সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।”