“ক্যাপ্টেন্সি হারালেন লিটন; লিপুকে বাঁচাতে চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত বিসিবি সভাপতি বুলবুলের”

 

আমার এই কনটেন্টের আজকের আলোচনা নিয়ে সবচেয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন—আমার অতি প্রিয় লিপু ভাই। আসসালামু আলাইকুম, কাজী আশরাফ হোসেন লিপু। এত বড় ঘটনা ঘটেছে, অথচ রিয়াসাদের কনটেন্ট আসছে না কেন—এটাই জানার জন্য সবাই অপেক্ষা করছিলেন।

এবার আসি মূল বিষয়ে।
লিটন কুমার দাস—বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। সাম্প্রতিক সিরিজ খারাপ হলেও এর আগের প্রতিটি সিরিজেই তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নিয়মিত জিতেছে। কিন্তু আজ সেই লিটনের নেতৃত্ব নিয়েই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ—যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় লিপু ভাই বা মিনহাজুল আবেদিন নান্নু!

লিপু ভাই প্রধান নির্বাচক হিসেবে যে দায়িত্ব পাচ্ছেন—তার বেতন, সুযোগ-সুবিধা, বিদেশ সফরের ফ্যাসিলিটিস—সবই ঠিক আছে। কিন্তু কাজ কী? অনলাইনের কিছু পরিসংখ্যান প্রিন্ট করে এনে দল বানিয়ে দেওয়া? এমনকি নিকটতম সিরিজ বা বিশ্বকাপের আগে দলের সঙ্গে সামান্য আলোচনা পর্যন্ত নেই!

সাম্প্রতিক শাম্ম হোসেন পাটোয়ারী ইস্যুতে লিটন স্পষ্টই জানিয়েছিলেন—দল নির্বাচনে তার মতামত নেওয়া হয়নি। অথচ নির্বাচকের বক্তব্য—কোনো সিদ্ধান্তই অধিনায়কের অনুমোদন নিয়ে করতে হবে, এমন নয়!
প্রশ্ন হচ্ছে—আলোচনা মানেই কি অনুমোদন?
না—অধিনায়ক বলবে, ব্যাখ্যা করবে, পরিকল্পনা দেবে—এটাই স্বাভাবিক। অথচ লিপু ভাইয়ের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে যেন ক্যাপ্টেনের মতামতেরই প্রয়োজন নেই!

আরও দুঃখজনক—দল ঘোষণা করার পরও তিনি মিডিয়ার সামনে আসেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান। অথচ দল ঘোষণা করা মানে ব্যাখ্যা দেওয়া—এটা দায়িত্ব, অনুগ্রহ নয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরও বড় সমস্যা—বোর্ডের বিশৃঙ্খলা, নারী ক্রিকেটারদের হয়রানি মামলার বিচারহীনতা, প্রথম বিভাগ লিগ আয়োজনেও ব্যর্থতা—এত কিছু চলতে থাকার মধ্যেও নির্বাচকদের অহংকার যেন দিন দিন বাড়ছে।

অপরদিকে, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানকেও জানা থাকে না—দল নির্ধারণে ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা! তাহলে এই পদে থাকা মানুষের কাজ কী?

মেহেদী হাসান মিরাজ, শান্ত—এদের ক্যাপ্টেনসি দেয়া-নেওয়ার ঘটনাগুলোতেও ছিল সার্কাসের মতো অবস্থা। আর এখন সেই সার্কাসের কেন্দ্রবিন্দুতে লিটন দাস।

লিটন খারাপ খেললে আমরা সমালোচনা করব—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন সফল অধিনায়ককে হঠাৎ করে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া—এটা অসম্মানজনক, অপ্রফেশনাল এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

শেষ কথা—
এমন ম্যানেজমেন্ট, এমন নির্বাচক, এমন অপারেশনসের অধীনে যদি লিটন কুমার দাস ভবিষ্যতে অধিনায়ক না থাকেন—তাতে বরং তার মানসিক চাপই কমবে। কারণ বর্তমান সিস্টেমটাই এতটাই নোংরা ও বিভ্রান্তিকর যে এখানে ভালো অধিনায়ক টিকে থাকা কঠিন।

Post a Comment

Previous Post Next Post