শেখ হাসিনার সরকারের অবসান ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পর এখন কীভাবে নতুন নেতৃত্ব গড়ছে আ.লীগ—জানুন সব বিশদ।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত করে, এমনকি দলটির নিবন্ধনও বাতিল করা হয়। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ মূলত বিএনপির অবস্থানের দিকে নজর রাখছে।
দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, আপাতত সহিংসতা এড়িয়ে গুছিয়ে রাজনীতি করার কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সামান্য রাজনৈতিক সুযোগ পেলেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত যারা ছিলেন, তারা আর নেতৃত্বে থাকবেন না—এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। পুরোনো বিতর্কিত মুখ বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার চিন্তাভাবনা চলছে।
আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে এখনো শেখ হাসিনাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা হিসেবে দেখা হয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব সামনে আনার প্রশ্নও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে,
“শেখ পরিবার এখনও নেতৃত্বে থাকবে, তবে প্রয়োজনে নতুন কোনো মুখকে সামনে আনা হতে পারে।”
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে জানুয়ারিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, তার মা শেখ হাসিনা হয়তো আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না। তিনি বলেছিলেন, এটি তার শেষ মেয়াদ ছিল। তবে দলীয় শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে বলেন, শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।
দলের এক সাংগঠনিক সম্পাদক যুগান্তরকে জানিয়েছেন,
“প্রতিষ্ঠানিক স্বস্তি ফিরেছে। নেতাকর্মীরা আত্মগোপন থেকে বের হয়ে আসছেন। রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হলে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ভাবা হবে।”
এছাড়া তিনি যোগ করেছেন,
“আমাদের কোটি কোটি নেতাকর্মী ও সমর্থক দেশে রয়েছেন। তাদের ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না। তাই আপাতত তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। বিএনপির অবস্থান আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।”
সর্বশেষ, আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের দ্বৈত কৌশল পরিষ্কার—একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব অটুট রাখার বার্তা, অন্যদিকে বাস্তবতার আলোকে বিকল্প নেতৃত্ব সম্ভাবনা খোলা রাখা। তবে কার্যকরভাবে রাজনীতিতে ফিরতে সরকারের আনুষ্ঠানিক ‘স্পেস’ বা ছাড়ের অপেক্ষা করছে দলটি।