ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বে নতুন সমীকরণ! ২০৩১ বিশ্বকাপ আয়োজন কি হাতছাড়া হবে বাংলাদেশের?
ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েন বহু বছর ধরেই ক্রিকেট সম্পর্ককে অচল করে রেখেছে। ২০১৩ সালের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নেই বললেই চলে। আইসিসি বা এসিসির টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হলেও একে অপরের দেশে খেলতে যেতে অনীহা—এই বাস্তবতা এখন বৈশ্বিক ক্রিকেট আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
২০২৯ সালের ICC Champions Trophy 2029 আয়োজনের দায়িত্ব ভারতের। এর পরের বড় আসর ICC Cricket World Cup 2031 যৌথভাবে আয়োজনের কথা রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম The Age জানিয়েছে—ভারত থেকে এই দুটি টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে International Cricket Council।
কারণ?
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা, বিশেষ ভ্রমণ ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে বাড়তি লজিস্টিক ব্যয় ও জটিলতা বাড়ছে। এতে আইসিসির অসন্তোষও নাকি বাড়ছে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
২০৩১ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের স্বপ্ন দেখছে Bangladesh national cricket team-এর দেশ বাংলাদেশ। এটি শুধু ক্রিকেট নয়, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রশ্নও।
কিন্তু ভারত থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়া হলে পুরো যৌথ আয়োজন কাঠামো নতুন করে ভাবতে হতে পারে। তখন বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কতটা থাকবে—সেটাই বড় প্রশ্ন।
আগেও হয়েছে হাইব্রিড মডেল
ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বের প্রভাব নতুন নয়। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পাকিস্তানে হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের আপত্তিতে হাইব্রিড মডেলে আয়োজন করা হয়।
India national cricket team ও Pakistan national cricket team-এর মধ্যে ২০২৭ সাল পর্যন্ত একে অপরের দেশে না খেলার চুক্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বাংলাদেশের অবস্থান ও নতুন বিতর্ক
ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিরাপত্তা ইস্যু তুলে সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় আলোচনায় আসে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত দলটি অংশ না নেওয়ায় তাদের জায়গায় সুযোগ পায় Scotland national cricket team।
ঘটনার কূটনৈতিক প্রভাবও ছিল স্পষ্ট। এক পর্যায়ে পাকিস্তানও ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিসিকে একাধিক দফায় আলোচনায় বসতে হয়।
সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে—রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি ও আয়োজন কাঠামোয়।
যদি ২০২৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০৩১ বিশ্বকাপের আয়োজকত্ব পুনর্বিবেচনায় যায়, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি দাঁড়াবে বাংলাদেশের সামনে।
বাংলাদেশ কি যৌথ আয়োজক হিসেবেই থাকবে?
নাকি নতুন সমীকরণে বদলে যাবে বৈশ্বিক ক্রিকেটের মানচিত্র?
এখন সবার নজর International Cricket Council-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন অটুট থাকবে, নাকি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সেটিও ভেস্তে যাবে—সময়ই দেবে তার উত্তর।
.png)