ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কঠিন পরীক্ষায় বসলেন তারেক রহমান!

 

“গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় ফিরলেন তারেক রহমান: ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের কঠিন পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশ”

দেড় বছর আগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকার পরবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করে, এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হয়েছে।

নির্বাচনের এই ফলাফলকে অনেক বিশ্লেষক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ও ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী আন্দোলনের বৈধতা হিসেবে দেখছেন। ২০২৪ সালে স্রোতের মতো বিক্ষোভ ও নির্মম দমনের পর—যেখানে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হন—জনগণের ক্ষোভের সমষ্টি অবশেষে শেখ হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ পায়।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও আন্তর্জাতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘদিনের সমর্থক দেশ ভারত হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়েছে।

তবে তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ এখন সহজ নয়। তিনি সম্প্রতি এক সমাবেশে বলেছেন,

“নট দিল্লি, নট পিণ্ডি—বাংলাদেশ সবার আগে।”

তার অর্থ, বাংলাদেশ স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন নেতৃত্ব দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে স্বাধীন ও সক্রিয় ভূমিকার দিকেই পদক্ষেপ নেবে, যেখানে ভারত, পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারেক রহমানের বড় পরীক্ষা হবে—সীমান্ত, বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখা। তবে জনমতের চিত্র একপাক্ষিক নয়; দেশবাসী এখনও বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজন উপলব্ধি করছে।

বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব পুনর্নির্মাণ করবে। মূল লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশের স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে দৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করা।

Post a Comment

Previous Post Next Post