ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিসিবির আবেদন সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সম্প্রতি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো না করে সতর্কভাবে বিসিবি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এরপর বিসিবির পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ মন্তব্যের পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিসিবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর সাবেক বিসিবি পরিচালক ও কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এই কথার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি বলতে পারে শুধুই অসভ্য মানুষ। একজন বোর্ড ডিরেক্টর হিসেবে এমন মন্তব্য একদম অনুচিত।”
সুজন আরও বলেন, “ভারতের ক্রিকেট আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। মোস্তাফিজকে বাদ দিবে বা রাখবে, সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু একজন পরিচালক হিসেবে আপনার মন্তব্য অবশ্যই দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।”
বিসিবির আরেক পরিচালক আসিফ আকবর মন্তব্য করেছেন, দুই-একটা বিশ্বকাপ না খেললে কিছু যায় আসে না। যদিও সভাপতি বুলবুল তার সঙ্গে একমত নন।
সুজন এ প্রসঙ্গে বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও দেশে জনপ্রিয়তা দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে। তামিম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন খেলোয়াড়। তাই তার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি বিশ্বকাপ বয়কট করলে আর্থিক ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন। “জিম্বাবুয়ে ছাড়া খেললে টিভি কাভারেজ কি পাওয়া যাবে? আয় ছাড়া ক্রিকেট চালানো সম্ভব নয়।”
এই বিতর্ক দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিসিবি ও আইসিসি কী সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে ওঠে।