বিপিএলে তুমুল উত্তেজনা: গভীর রাতে গুরবাজের কক্ষে তল্লাশি, ম্যাচের আগে সাইফকে জেরা
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (ACU)-এর কার্যক্রম ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্টদের দাবি, আন্তর্জাতিক তারকা রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং জাতীয় দলের ব্যাটার সাইফ হাসানের সঙ্গে ইউনিটের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ অপেশাদার ও নিয়মবহির্ভূত।
এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আফগান ওপেনার গুরবাজকে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গভীর রাতে তার হোটেল কক্ষে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। টিম ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়ে আকসুর কর্মকর্তারা সরাসরি তার রুমে ঢুকে মোবাইল ফোন পরীক্ষা ও বিভিন্ন প্রশ্ন শুরু করেন।
ঘটনার সময় গুরবাজ সারারাত জেগে থেকে ভোরে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ এই অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে নিজ দেশের অ্যান্টি-করাপশন বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়কে জেরা করার আগে টিম ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক এবং খেলোয়াড়ের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়।
এমন অভিজ্ঞতার পর গুরবাজ নাকি স্পষ্ট করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি থাকলে তিনি বিপিএলে আর খেলতে আগ্রহী নন।
একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ব্যাটার সাইফ হাসানের ক্ষেত্রেও। জানা গেছে, ধারাবাহিকভাবে রান না পাওয়ায় তিনি মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। কোচিং স্টাফ তাকে ম্যাচের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছিলেন। ঠিক সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, মাঠে নামার আগমুহূর্তে তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট।
ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, একজন ব্যাটসম্যান যখন ক্রিজে নামার প্রস্তুতি নেন, তখন তার মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানো অত্যন্ত ক্ষতিকর। সাইফ পরে জানান, ব্যাটিংয়ের সময় তার মনে ভয় কাজ করছিল—প্রথম বলেই আউট হলে তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে কি না!
টিম ম্যানেজমেন্টের দাবি, এই ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী এবং আইসিসির গাইডলাইনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বিপিএলের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
এখন পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেট মহলে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।