ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুতে শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনেও চলছে ব্যাপক তোলপাড়। যদিও এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
আইপিএলের মিনি নিলাম থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে—যদি আইপিএলে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? সেই প্রেক্ষিতেই বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ইতোমধ্যে আইসিসির সঙ্গে দুই দফা ইমেইলে যোগাযোগ করেছে বিসিবি। স্টার প্লেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন,
‘ক্রিকেটের চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে দেশ। দেশের মান-সম্মান, দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন—এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ফোকাস যেন বিভক্ত না হয়, সেটা নিশ্চিত করা দরকার।’
আইসিসির ভূমিকা প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি বলেন,
‘আইসিসি আমাদের মাদার বডি। বর্তমানে আইসিসির ১১২টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ১২টি পূর্ণ সদস্য। বিশ্বকাপ আয়োজন ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইসিসি আয় করে এবং সেই আয়ের একটি বড় অংশ সদস্য দেশগুলো পায়। বাংলাদেশের মোট আয়ের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ আসে আইসিসি থেকে। এই আয় অর্জন করতে হলে ভালো খেলতে হয়, র্যাঙ্কিং বজায় রাখতে হয় এবং নিয়মিত অডিট ও কমপ্লায়েন্স মানতে হয়।’
কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য ও সমালোচনার বিষয়ে বুলবুল বলেন,
‘মন্তব্য যে কেউ করতেই পারে। কোয়াবের চিঠিও আমরা দেখেছি। তবে আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে, যেন খেলোয়াড়দের ছোট করা না হয় এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে।’
ভেন্যু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,
‘মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আমরা হালকাভাবে নেইনি। বিশ্বকাপের আগে চাইলে আইসিসি সহজেই ভেন্যু পরিবর্তন করতে পারে। আমরা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আইসিসি আমাদের কনসার্ন জানতে চেয়েছে, এবং সেগুলো আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিসিবি প্রধান বলেন,
‘আমাদের সরকার শুধু খেলার আয়োজন নয়, বিদেশে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সার্বিক সহায়তার ক্ষেত্রেও পাশে আছে। সব বিষয় উল্লেখ করে আমরা আইসিসিতে চিঠি দিয়েছি এবং তাদের দ্বিতীয় ইমেইলের উত্তরের অপেক্ষায় আছি।’
আইপিএল প্রসঙ্গে বুলবুল বলেন,
‘আইপিএল একটি ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। সেখানে খেলোয়াড়দের বিষয়ে আমাদের যোগাযোগ মূলত এনওসি সংক্রান্ত। বিসিসিআই আমাদের পার্টনার হলেও আমাদের প্রধান যোগাযোগের জায়গা হচ্ছে আইসিসি।’
মুস্তাফিজুর রহমানের বিষয়ে তিনি বলেন,
‘মুস্তাফিজ জাতীয় দলের একজন চুক্তিবদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ ফাস্ট বোলার। সাধারণত এসব খেলোয়াড় তাদের এজেন্টের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে। কেকেআরের সঙ্গে তার চুক্তির বিষয়টি আমরা সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পারি।’
তিনি আরও জানান, যেকোনো আন্তর্জাতিক সফরের আগে সরকারের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করেই দল পাঠানো হয়।
শেষে বুলবুল বলেন,
‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের ক্রিকেটের মান উন্নয়ন। বর্তমানে আমাদের র্যাঙ্কিং ৯-১০-এর মধ্যে। লক্ষ্য হওয়া উচিত একদিন সেটিকে ৩ বা ৪-এর মধ্যে নিয়ে যাওয়া। তাতে বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদের অবস্থান আরও শক্ত হবে।’
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।