ব্যাট হাতে রিটায়ার্ড আউট হওয়ার পর বল হাতেও মলিন সাকিব আল হাসান। আইএলটি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ম্যাচে অম্লমধুর অভিজ্ঞতা হলো বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের। তবে দলের প্রতি উদারতা দেখিয়ে সাকিব ভাসছেন প্রশংসার সাগরে। দলের বড় পুঁজির কথা ভেবে এদিন সাকিব আউট না হয়েই ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। যদিও ব্যাটে-বলে অধিনায়কের আস্থা কুড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
দলের প্রতি সাকিবের নিবেদন সবসময়ই অন্যরকম। এর আরও এক নজির দেখা গেল শারজায়। তাসকিন আহমেদের দল শারজাহ ওয়ারিয়র্জের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নামে এমআই এমিরেটস। ১১তম ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম সাজঘরে ফিরলে ক্রিজে নামেন সাকিব।
দ্বাদশ ওভারে নিজের প্রথম দুই বল ডট হলেও ওভারের শেষ বলে হাঁকান দৃষ্টিনন্দন চার। পরের ওভারে আরও একটি চার ও একটি সিঙ্গেল আসে সাকিবের ব্যাট থেকে। ১৬তম ওভার শেষে যখন ১২ বলে ১৬ রান সাকিবের পাশে, তখন সাকিব স্বেচ্ছায় ক্রিজ ছেড়ে যান। রিটায়ার্ড আউট হয়ে সুযোগ দেন অধিনায়ক কাইরন পোলার্ডকে।
এর আগে মোহাম্মদ ওয়াসিমের ২৯ বলে ৩৯ ও জনি বেয়ারস্টোর ২৪ বলে ৩৭ রানের দুই ইনিংস দলকে গড়ে দেয় বড় পুঁজির ভিত। টম বেন্টন ২১ বলে করেন ৩২ রান। পোলার্ড সাকিবের বদান্যতায় ক্রিজে নেমে সুবিধা করতে না পারলেও তাজিন্দার সিং ও রোমারিও শেফার্ডের ক্যামিওতে শেষপর্যন্ত বড় পুঁজি পায় এমআই এমিরেটস। তাজিন্দার ৮ বলে ১৭ করে সাজঘরে ফিরলেও ১০ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন শেফার্ড। ৮ উইকেট হারিয়ে পুঁজি দাঁড়ায় ১৮৫ রান।
জবাব দিতে নেমে ছেড়ে কথা বলেনি শারজাহ। সাকিব প্রথমবার বল হাতে পান ৮ম ওভারে। প্রথম বলেই তাকে ছক্কা হাঁকান টম কোহলার ক্যাডমোর। সেই ওভারে বিলি করেন ১১ রান। দ্বাদশ ওভারে আবারো বল হাতে নিলে এবার সাকিবকে জোড়া ছক্কা হাঁকান সিকান্দার রাজা। এই ওভারে ১৬ রান খরচ করেন সাকিব।
এমন খরুচে বোলিংয়ের পর অধিনায়ক পোলার্ড আর সাকিবের হাতে বল তুলে দেওয়ার সাহস করেননি। এমিরেটস অবশ্য রোমাঞ্চকর ম্যাচটায় মাঠ ছাড়ে জয় নিয়ে। তবে পরের ম্যাচে সাকিব একাদশে থাকবেন কি না, প্রশ্ন জাগতেই পারে।
